কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিন দিন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আরও বেশি জড়িয়ে পড়ছে। কাজকে সহজ করা, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও সৃজনশীলতাকে আরও উন্নত করায় এআই বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারে বা বিভিন্ন পেশার ক্ষেত্রে এআইয়ের ক্ষমতা সাধারণ কাজ থেকে শুরু করে জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন দিক খুলে দিচ্ছে। তবে এআই ব্যবহারে আছে ঝুঁকিও। সম্প্রতি গুগল জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো তারা এমন একটি সাইবার হুমকি শনাক্ত করেছে যেটি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ও কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
গুগলের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ (জিটিআইজি) বলেছে, একটি হুমকিকারী গোষ্ঠী এমন একটি জিরো-ডে এক্সপ্লয়ট তৈরি করেছিল যা দিয়ে বড় ধরনের সাইবার আক্রমণের পরিকল্পনা ছিল। এই দুর্বলতাটি আগে থেকেই অজানা ছিল, তাই লক্ষ্যবস্তুর জন্য প্রস্তুতির কোনো সুযোগই ছিল না।
এনগ্যাজেট এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়-গুগল জানায়, তারা ধারণা করছে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেই এই দুর্বলতা খুঁজে বের করা ও সেটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কোম্পানিটি নিশ্চিত করেনি যে তাদের নিজস্ব ‘জেমিনি’ মডেল ব্যবহার করা হয়েছে কি না।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই হুমকি গোষ্ঠী একটি বড় পরিসরের সাইবার আক্রমণের পরিকল্পনা করছিল। তবে গুগলের আগাম শনাক্তকরণের কারণে সম্ভাব্য সেই আক্রমণটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিকে আগেই জানানো হয় এবং তারা পরে নিরাপত্তা ত্রুটিটি ঠিক করে নেয়।
গুগল সরাসরি কোনো হ্যাকার গ্রুপের নাম প্রকাশ করেনি, তবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠী এ ধরনের এআই-ভিত্তিক আক্রমণে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
গুগলের বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভবিষ্যতের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির একটি ছোট উদাহরণ মাত্র। তাদের ভাষায়, ‘এটি কেবল শুরু, বরফখণ্ডের চূড়ামাত্র।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেমন সাইবার প্রতিরক্ষায় সাহায্য করতে পারে, তেমনি এটি ব্যবহার করে আরও উন্নত ও বিপজ্জনক সাইবার আক্রমণও তৈরি করা সম্ভব। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এআই ব্যবহার করে নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কাজ শুরু করেছে।